QUR'AN LEARNING COURS
দৈনন্দিন জীবনে কুরআন শিক্ষা ও নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম । প্রত্যেক মুসলমান মহান আল্লাহর রহমতের জন্যে কোরআন তেলাওয়াত করে।
কোরআন তেলাওয়াত শুদ্ধভাবে না হলে উল্টো গুনাহ হয়। তাই আরবি ভাষার কিছু রীতিনীতির জ্ঞান ও শব্দের সঠিক উচ্চারণের মতো বিষয় গুলো জানা জরুরী।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের জন্যে আরবি ভাষার জ্ঞানের পাশাপাশি বিশুদ্ধ উপায় অনুসরণ করা আবশ্যক।
সকল বয়সের নারী ও পুরুষ আমাদের এই অনলাইনে কুরআন শিক্ষা কোর্স করে সঠিক নিয়মে কুরআন পড়তে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
অনলাইন কুরআন শিক্ষা কোর্সে আপনি সহজেই শিখতে পারবেন আরবি বর্ণমালার সঠিক উচ্চারণসহ সহিহ করে তেলাওয়াত।
কেন কুরআন পাঠ শিখবেন?
কুরআন শব্দের শাব্দিক অর্থ হল- পাঠ করা বা যা পাঠ করা হয়। আর কুরআনের পারিভাষিক অর্থ হল- আল্লাহ তা‘আলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে
সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানব জাতির হেদায়াতের জন্য রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন তার নাম আলকুরআন।
নিম্নে কুরআনের পরিচয় তুলে ধরা হলো:
এক: কুরআন আল্লাহর কিতাব :
শুধু কুরআন নয় বরং আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে মানবতার হেদায়াতের জন্য যেসব কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সেগুলো সবই আসমানী কিতাব।
আলকুরআন হলো সর্বশেষ আসমানী কিতাব, যা বিশ্বমানবতার জন্য অবতীর্ণ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘নিশ্চয় এ কুরআন বিশ্ব জাহানের রবের
পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে’’ [সূরা আশ-শু‘আরা-১৯২]।
দুই: কুরআন হলো নুর বা আলো :
অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতিকে সত্যিকার আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য আল-কুরআন হলো আলো বা নুর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অবশ্যই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো ও সুস্পষ্ট গ্রন্থ এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করেন। আর তাদেরকে সরল পথের দিকে হিদায়াত দেন [সূরা মায়িদাহ-১৫,১৬]।
কুরআন শিক্ষা ও তিলাওয়াতের ফযিলত অন্যতম হল কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহর সাথে একটি লাভজনক ব্যবসা।
বিভিন্ন ব্যবসায় লাভ এবং ক্ষতি দুটিরই সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এখানে লাভ ছাড়া কোন প্রকার ক্ষতি নেই। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিজিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসা
যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দান করবেন।
তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান। [সূরা ফাতির ২৯-৩০]
তিন: আরও কিছু গুরুত্ব
এছাড়াও কুরআন পাঠকারী প্রত্যেক হরফের জন্য সওয়াব লাভ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।’’ [সুনান আত-তিরমিযি:২৯১০]
সেই সাথে কুরআনের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সর্বোত্তম ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত। কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে ও অপরকে শিক্ষা দেয়। [বুখারী: ৫০২৭]।
কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে।এটা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ, কুরআন কেয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। [মুসলিম: ১৯১০]।
কুরআন শিক্ষা করবেন কেন?
ইসলামী জ্ঞান অর্জনের এক নম্বর উপাদান ও মাধ্যম হল আল কুরআন। আরও একটু স্পষ্ট করে বল্লে, কুরআন হল সকল জ্ঞানের একমাত্র উৎস।
নিচে কি কি কারণে কুরআন শিখতে হয় তা বর্ণনা করা হল-
প্রথমত: কুরআন শিক্ষা ফরয
প্রত্যেক মুসলিমকে কুরআন পড়া জানতে হবে। যে নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করবে তাকে অবশ্যই কুরআন শিক্ষা করতে হবে। কুরআন শিক্ষা করা এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, আল্লাহ তা‘আলা কুরআন শিক্ষা করা ফরয করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন’ [সূরা আলাক : ১]।
কুরআন শিক্ষায় কোন প্রকার অবহেলা করা যাবে না। উম্মাতকে কুরআন শিক্ষার নির্দেশ দিয়ে ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তিলাওয়াত কর’ [মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবাহ:৮৫৭২]।
দ্বিতীয়ত: সালাত আদায়ের জন্য কুরআন শিক্ষা করা জরুরী
আল্লাহ তা‘আলা ঈমানদার বান্দাহদের উপর প্রতিদিন পাচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। কুরআন তেলাওয়াত ছাড়া সালাত আদায় হয় না। সালাত আদায় করার জন্যও কুরআন শিখতে হবে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়’ [সূরা আল-মুযযাম্মিল: ২০]।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সূরা ফাতেহা পড়ে না তার সালাতই হয় না। [সহীহ বুখারী:৭৫৬]
কুরআন শিক্ষা না করার ক্ষতি কি?
কুরআন না শিখলে অনেক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়। সেটা পৃথীবীতে ও আখেরাত দুই জায়গাতেই ক্ষতি হবে। নিচে কোরআন না শিখার দুইটি মারাত্নক ক্ষতি আলোচনা করা হল-
এক: রাসূল সা. কুরআন না শিখার জন্য অভিযোগ করবেন
আমরা জানি যে কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিতে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাতের জন্য শাফায়াত চাইবেন।
কিন্তু যারা কুরআন শিক্ষা করেনি, কুরআনের যেসব হক রয়েছে তা আদায় করেনি, সে দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ পেশ করবেন। কুরআনে এসেছে, আর রাসূল বলবেন, হে আমার রব, নিশ্চয় আমার কওম এ কুরআনকে পরিত্যাজ্য গণ্য করেছে। [সূরা আল-ফুরকান-৩০]
ইবন কাসীর বলেন, কুরআন না পড়া, তা অনুসারে আমল না করা, তা থেকে হেদায়াত গ্রহণ না করা, এ সবই কুরআন পরিত্যাগ করার শামিল।
দুইঃকুরআন না জানা ব্যাক্তি কিয়ামতে অন্ধ হয়ে উঠবে
যে কুরআন শিখা থেকে থেকে বিমুখ হয়ে থাকল, সে কতইনা দুর্ভাগা! আলকুরআনে এসেছে, আর যে আমার কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, নিশচয় তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত এবং আমি কিয়ামতের দিন তাকে অন্ধ অবস্থয় উঠাবো।
সে বলবে, হে আমার রব, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন ? অথচ আমিতো ছিলাম দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন? তিনি বলবেন, অনুরুপভাবে তোমার নিকট আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, অত:পর তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হল’ [সূরা তাহা-১২৪-১২৬]।
কুরআন শিক্ষা কোর্সটি কাদের জন্য?
কোরআন পড়া শিখতে আগ্রহী যেকোনো বয়সী মানুষের জন্য।
বিঃদ্রঃ
- নূন্যতম ১০ জন কোর্স গ্রহণকারী হলেই কোর্সের ক্লাস শুরু হবে।